পরিচয় টি আগে দিয়ে নেই!
ছোট কাল হতেই সবার হতে একটু আলাদা প্রকৃ্তির ছিলাম। তখন থেকেই ভাল গান গাইতাম। স্কুল কলেজ এ প্রতিনিয়ত এখন এসবের সাথে জড়িত আছি। মানুষের অনেক কিছুতেই ঝোক থাকে কিন্তু আমার ক্ষেত্রে ছিল ব্যতিক্রম। আমি সপ্তম শ্রেনী হতেই কম্পিউটার আর ইন্টারনেট এর প্রতি ঝুকে পড়েছিলাম। এখন আমি তথ্য ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কাজ করছি। ভবিষ্যতে দেশের জন্য বড় কিছু করার দৃড় প্রতিজ্ঞ আমি। এখন আমি ফ্রিল্যানসিং, আউটসোর্সসিং, ব্লগিং, তথ্য ও প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগের সম্প্রসারন, সাথে স্পো্কেন ইংলিশ কোর্স করছি।
শুধু স্ব্প্ন দেখছি না বাস্তবায়নের দিকে ধাবিত হবার লক্ষে এগুচ্ছি। নিজের অনেক বন্ধু কে তথ্য ও প্রযুক্তি জ্ঞাণ প্রদান করেছি। এবং আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর অন্তর্গত সিদ্ধেশরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এর বিবিএ ১ম বর্ষ এর একজন ছাত্র।
আমাদের ১ম বর্ষ এর বোর্ড পরীক্ষা ২৮ শে সেপ্টেম্বর এ শুরু হয়েছে। আমাদের হতেই বিবিএ পদ্ধতি চালু হয়েছে। প্রথম পরীক্ষা হতেই আমাদের প্রশ্ন এত টাই কঠিন হয়েচে যে বলা বাহুল্য। আজ ২ অক্টোবর সকাল বেলা তে আমার এক পরীক্ষার্থী বন্ধু কে জোড়া পূর্বক বাস হতে ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে তার পরিক্ষার হলে প্রবেশে ৩০ মিনিট বিলম্ব হয়েছে। বাস টির নাম ছিল "অনাবিল" নাম এ সিটিং সার্ভিস কিন্তু তুরাগ এর মত লোকাল এর মত যাত্রি ওঠায়। বন্ধু এর এই রুপ অপমান আমি সইতে পারলাম না।
উদ্দেশ্য ছিল কয়েকটা অনাবিল এর বাস থামিয়ে সুপারভাইজার এর সাথে দেখা করব কথা বলব যে কেন এমন করা হল। একটা থামানোর পর কোন ধনাত্মক কিছু খুজে পেলাম না বাস ভাঙ্গা ছাড়া। কিন্তু মনে সহমর্মিতা ছিল তাই কাউকেই বাস ভাংতে উদ্বুদ্ধ করি নি, কারন এটা ছিল উদ্দেশ্য বহির্ভুত কথায় কাজ হলে এসবের দরকার পরে না! আরও ৬-৭ তা অনাবিল বাস আটকালাম। যাত্রি রা আমাদের অপর চেচালো মেনে নিলাম। একজন পুলিশ কর্মকর্তার সাথে কথা বললাম উনি বলল একটা বাস পাশ করে রেখে বাকি গুল ছেড়ে দিতে, উনাদের হাতে দেশের জান মাল তাই করলাম তিনি যা বললেন।
বাস ২ টা রেখে বাকি গুলো ছেড়ে দিতে বললাম, এমন সময় এক অনাবিল বাসের ড্রাইভার গালাগালি করলো আমাকে করার পর চুপ করে ছিলাম। কিন্তু সে সুযোগে বাবা-মা নিয়ে গালি দিল, যা সইবার ক্ষমতা আমার দেহে ছিল না। বাস এ উঠে লাগালাম ৩ টা সজোরে থাপ্পর। আমার দোষ এটাই এমন সময় RAB পুলিশ আমাকে আমার এক বন্ধু কে ওকে মারার সময় হাতে নাতে ধরল। দুইজন কেই অনেক জোড়ে থাপ্পর দিল।
আমরা কারো সাথে কোন খারাপ ব্যবহার করিনি করতে দেই ও নি। রাস্তাইয় তারা আমাদের সাথে কুকুরের মত করল। ছিন্তাইকারী দের মত কলার ধরে সবার সামনে টানল। ৪০-৫০ জন ছাত্রের মধ্যে মাত্র ৫ জন ধরে সে কি বীরত্ব। সবচেয়ে খারাপ লাগল বাস এর যাত্রি রা আমাদের দুষলো। অবাক লাগল। লাঠি দিয়ে মারল মালিবাগ সুপার মার্কেট এর সামনে। জানের আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু এত মারে নি। ধমকাচ্ছিল RAB-৩ এর অফিস এ নিয়ে আমাদের ধুমাবে। দেখেন বাস ভাঙ্গি ও নাই আগুন এ দেই নাই। অনেক ভাবে বুঝালাম আম্রা যে এমন না কিন্তু তারা মানতে নারাজ। গাড়ী তে করে কমিউনিটি সেন্টার এর সামনে নিয়ে গেল। অভিভাবক দাক্তে বলল ডাকলাম, আসার আগে বলে যে ছাত্র সংসদ এর কাউকে চিনি কিনা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এর। তারপর সেক্রেটারিকে ফোন দিলাম ছাত্রলীগ এর। আমার বন্ধু একজন রমনা থানা ছাত্র লীগ এর সদস্য । ও ঘটনাস্থলে আসতে দেরি নাহলে আগেই ছেরে দিত ওরা। পরে উনারা মুচলেকা নিল খালি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিল তারপর ছাড়ল।
আমি শুধু এটাই বলতে চাই যে ছাত্র রা আজ ও কত নিরীহ। মরে যেতে মন চাইছিল। দেশে এখন ছাত্র দের সাথে বৈষম্য করা হয়, তাদের খারাপ চোখে দেখা, আমাদের আন্দোলন এ বাধা দেয়া হয়, যে কারনে বাস থামালাম সেই বাস এর ব্যাপার এ তারা কিছু করল না। কারন আমরা নিরীহ। তারা জানে যে আমরা সইতে পারি। কিন্তু সহ্য ক্ষমতা সবার এক থাকে না। ছাত্র আজ ও দমিয়ে রাখা হয় কারন আমরা নিরীহ। আমার আর ভাল লাগেনা। রাজনীতি করার ইচ্ছা না থাকা সত্তেও সমাজ জোর করছে। আজ আমি ছাত্র লীগ এর নেতা হলে ছোবার ও সাহস পেত না। কিন্তু আমরা নিরীহ। কারন আমি নিরীহ
আপনারা ই বলুন আমি এখন কি করব। এখন মনে হচ্ছে এ দেশ টার মুর্খ থাকাই উচিত। যেখানে ছাত্র দের পিটিয়ে মারা হয়, তারা আন্দোলঙ্করলে তাদের নামে দ্রুত বিচার আইন এ মামলা দেয়া হয়, অহেতুক লাঞ্চিত করা হয়, এ দেশ মুর্খ থাকাই ভাল। অভদ্র তার ই মুল্য আছে এখানে ভদ্রতার মুল্য নেই।
এ ব্যপারে আমার কোন দোষ গুন ধরা পরলে আমাকে বলবেন।
আমি এ ব্যপারে অ্যমিনেস্টি ইন্টারনেশনাল এবং মানবাধিকার কর্মী দের দৃষ্টি আকর্ষন করব। বীর দের রক্তে লিখা মাটি তে জন্মেছি। মরলে ও বীরের মতই মরব।
আপনাদের অভিমত জানান।
লিখেছেনঃ ব্লগার
No comments:
Post a Comment